আন্তর্জাতিক আইন কি, জানুন ইতিহাস।

International Law

পৃথিবীর প্রতিটি দেশ প্রতিটি দেশের সাথে জড়িত। যাতে করে সবার সাথে সবার সম্পর্ক বা যোগাযোগ একই ধরনের হয় সেই জন্যই আন্তার্জিক আইন তৈরি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন (International Law) হলো এমন এক আইনব্যবস্থা যা রাষ্ট্রসমূহ, আন্তর্জাতিক সংস্থা, ও বৈশ্বিক অঙ্গনে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করে। যুদ্ধ-শান্তি, চুক্তি, মানবাধিকার, পরিবেশ, বাণিজ্য, এমনকি মহাকাশ ব্যবহারও আজ আন্তর্জাতিক আইনের আওতাভুক্ত। এর ইতিহাস দীর্ঘ কয়েক হাজার বছরের, যা শুরু হয়েছে প্রাচীন সভ্যতা থেকে এবং আজকের জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আদালত পর্যন্ত বিস্তৃত।

প্রাচীন যুগে আন্তর্জাতিক আইনের শিকড়:

মেসোপটেমিয়া ও প্রাচীন চুক্তি:
✅ ব্যাবিলনীয়রা খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০–২০০০ সালে যুদ্ধবিরতি, শান্তিচুক্তি ও সীমান্ত নির্ধারণের নথি ব্যবহার করত।এখান থেকে যাত্র শুরু করে আন্তর্জাতিক আইন। তখন এটি আন্তর্জাতিক আইন নামে পরিচিতি লাভ করেন নাই।

ভারতীয় সভ্যতা:
✅ কৌটিল্যের চুক্তি, অস্ত্র এ রাষ্ট্রনীতি, কূটনীতি, যুদ্ধনীতি ও চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় পাওয়া যায় ভারতীয় সভ্যতা দিকে লক্ষ করলে।তখন ভারতীয় সভ্যতার বিস্তার ছিল অনেক বেশি।

গ্রিক ও রোমান সভ্যতা:

  1. গ্রিক নগর-রাষ্ট্রগুলো (City-states) কূটনৈতিক দূত, যুদ্ধবিরতি, অলিম্পিক চলাকালে শান্তি বজায় রাখার মতো নীতি মেনে চলত এবং এর ব্যতিক্রম করার কোন ধরনের সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। কেননা এটি লঙ্গন করলে শাস্তির বিধান ছিল।
  2. রোমান Jus Gentium অ-রোমান জনগণের সাথে সম্পর্কের নিয়ম নির্ধারণ করত, যা পরবর্তী আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি তৈরি করে।

এই রোমানরা একটা সময় বিশ্বের সবচেয়ে ধনি দেশে গুলোর মধ্যে প্রথম কাতের একটি দেশ ছিল। তাদের কাছে অনেক ধরনের সম্পদ ছিল। তবে তারা শাসন করতেন এবং শান্তি ফিরে আনার লক্ষে সর্বদাই কাজ করতে বলে জানা যায়। দিনে দিনে তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তারা সকল দেশের সাথে তাদের যোগাযোগ বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন লক্ষে কাজ করে। বলা হয়ে থাকে আন্তর্জাতিক আইনের জন্মই হয়েছে রোমে।

মধ্যযুগে আন্তর্জাতিক আইনের বিকাশ

ধর্মীয় প্রভাব:

✅ ইউরোপে (ক্যাথলিক চার্চ) যুদ্ধ ও শান্তি নিয়ন্ত্রণে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখে।
✅ ইসলামী আইন (সিয়ার) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুদ্ধবিধি, বন্দিদের অধিকার, চুক্তি, কূটনৈতিক দূতের নিরাপত্তা ইত্যাদি নীতিমালা নির্ধারণ করে।

বিংশ শতক এ আন্তর্জাতিক আইন ও বিশ্বযুদ্ধ

📌 প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর:

🖊️ League of Nations (1919) প্রতিষ্ঠিত হয়, যা শান্তি রক্ষার প্রথম আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা হলেও ব্যর্থ হয়।

📌 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর:

United Nations (1945) গঠিত হয়, যা আজও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রধান সংগঠন।
International Court of Justice (ICJ) জাতিসংঘের অধীনে গঠিত হয়।
Nuremberg ও Tokyo Trials যুদ্ধাপরাধের বিচার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের ভিত্তি স্থাপন করে।
Universal Declaration of Human Rights (1948) মানবাধিকারের জন্য বিশ্বব্যাপী আইনি কাঠামো তৈরি করে।

একবিংশ শতকের আন্তর্জাতিক আইন

মানবাধিকার আইন

  1. আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি, যেমন –International Covenant on Civil and Political Rights (ICCPR)
  2. International Covenant on Economic, Social and Cultural Rights (ICESCR) বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত।

    মানবাধিকার চুক্তি যদি কেহ লঙ্গন করে তাহেল আন্তর্জাতিক আদলতের মাধ্যমে সেই দেশে এর প্রধান বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিচার কতে পারেন। এখানে কোন ভাবেই আইন লঙ্গণ করার সুযোগ নেই।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন
বর্তমানে বিভিন্ন দেশ তার নিজের দেশের মধ্যে অপরাধ করে এবং অন্যদেশের সাথে দিন দিন অপরাধের মাত্র বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে অনেকই মনে করেন। তবে অপরাধ করলেই তার শাস্তি ভোগ করতে হবে। আন্তর্জাতিক ভাবে বিভিন্ন আইন রয়েছে। ক্ষেত্রভাগ করে দেওয়া রয়েছে যে, কি ধরনের অপরাধ করলে কে শাস্তি দিবে সেটি নির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ আছে। নিম্নে তাহা উল্লেখ করা হল।

International Criminal Court (ICC- 2002) যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করে।

আন্তর্জাতিক পরিবেশ আইন
Kyoto Protocol (1997)Paris Agreement (2015) জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক পদক্ষেপ।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন

United Nations Convention on the Law of the Sea (UNCLOS, 1982) সাগর ব্যবহারের নিয়ম নির্ধারণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *